রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৩:৩৪
শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পরিচালনার বৃহৎ কৌশলসমূহ / শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বিকাশ ও উৎকর্ষের জন্য সকল সামর্থ্য ও সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগানোর ওপর জোর

দেশের হাওজা-ইলমিয়াগুলোর পরিচালক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পরিচালনার বৃহৎ কৌশলসমূহ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বিকাশ ও উৎকর্ষ সাধনের জন্য জনগণ ও সরকারের সকল সামর্থ্য ও সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের হাওজা-ইলমিয়াগুলোর পরিচালক আয়াতুল্লাহ আলীরেজা আরাফি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পরিচালনার বৃহৎ কৌশলসমূহ ব্যাখ্যা করে বলেন, এই মহান জাগরণ এবং সামনে এগিয়ে আসা ঢেউয়ের সময়ে বিজ্ঞানী, বুদ্ধিজীবী, জ্ঞানী-গুণী, দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ করে বিশাল শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ও সম্মানিত শিক্ষকসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ভারী। ইসলামী প্রশিক্ষণের অগ্রপথিকদের বর্তমান প্রজন্ম, তরুণসমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে এক বিশাল দায়িত্ব রয়েছে।

দেশের হাওজা-ইলমিয়াগুলোর পরিচালক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার নতুন চ্যালেঞ্জ ও সুযোগগুলো পুনর্মূল্যায়নের ওপরও জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, পরিবার ও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার পরিচালনা ও নেতৃত্ব প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, সামাজিক ঘটনাবলি এবং বস্তুবাদী ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতির আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ইসলামী ব্যবস্থা ও ইসলামের যুক্তি অনুযায়ী এই কর্তৃত্ব ও নেতৃত্বকে সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং ইসলামের সুদৃঢ় নীতিমালা ও সময়ের পরিস্থিতি ও পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়ে তা সংরক্ষণ, পুনর্গঠন ও পুনঃসৃজন করতে হবে।

আয়াতুল্লাহ আরাফি আরও জোর দিয়ে বলেন, বিদ্যালয় হলো শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মৌলিক কেন্দ্র ও প্রধান অক্ষ; আর শিক্ষক, পরিচালক ও প্রশিক্ষণকারীরা হলেন প্রশিক্ষণের পথপ্রদর্শক ও স্থপতি। আদর্শ বিদ্যালয় গড়ে তোলা এবং শিক্ষক ও পরিচালকদের জ্ঞান ও দূরদর্শিতার উন্নয়ন সাধনের যেকোনো প্রচেষ্টা সবার দায়িত্ব।

আয়াতুল্লাহ আরাফির দৃষ্টিতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পরিচালনার চ্যালেঞ্জ, সুযোগ ও বৃহৎ কৌশলসমূহ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

ইসলামী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সম্মেলন আয়োজন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ অঙ্গনের সম্মানিত সদস্য ও কার্যকর ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে ইসলামী বিপ্লবের এই সংবেদনশীল ও নতুন পর্যায়ে এবং ইরান ও ইসলামের ইতিহাসের তিক্ত-মধুর ঘটনাবলির মধ্যখানে, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার নতুন চ্যালেঞ্জ ও সুযোগগুলো পুনর্মূল্যায়ন এবং নতুন ও কার্যকর সমাধানের চিন্তা করার এক নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

ইসলামী বিপ্লবের নতুন পর্যায়টি আমাদের শহীদ নেতা ও পথপ্রদর্শক এবং প্রিয় শহীদদের পাশাপাশি মিনাবের ‘তাইয়্যেবা’ বিদ্যালয়ের কোমলমতি শহীদ শিক্ষার্থী ও ইরান এবং প্রতিরোধ অক্ষের শহীদদের শাহাদাতের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। এটি তৃতীয় যুদ্ধ এবং ইসলামী বিপ্লব ও প্রতিরোধ অক্ষের সঙ্গে আমেরিকান-ইহুদিবাদী আধিপত্যবাদী ব্যবস্থার মৌলিক ও সভ্যতাগত সংঘর্ষের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর চিন্তাধারা, আমাদের শহীদ ইমামের (রহ.) দিকনির্দেশনা এবং তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি মহান ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার (দামাত বারাকাতুহ) নেতৃত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা জাগ্রত জাতি ও জাগ্রত উম্মাহ এবং সশস্ত্র বাহিনী ও প্রতিরোধ অক্ষের আত্মত্যাগী সদস্যরা এই নতুন অধ্যায়, নতুন বিকাশ এবং ইসলামী বিপ্লবের নতুন দীপ্তির স্থপতি।

এই মহান জাগরণ ও সামনে এগিয়ে আসা ঢেউয়ের সময়ে বিজ্ঞানী, বুদ্ধিজীবী, জ্ঞানী-গুণী, দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ করে বিশাল শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ও সম্মানিত শিক্ষকসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামী প্রশিক্ষণের অগ্রপথিকদের বর্তমান প্রজন্ম, তরুণসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে বিশাল দায়িত্ব রয়েছে। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও বিপ্লবী শিক্ষক, প্রশিক্ষণকারক ও পরিচালকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রাণবন্ত কেন্দ্রই আসন্ন পরিবর্তনের অগ্রপথিক হয়ে উঠতে পারে, বিশাল সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে এবং বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে পারে।

শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সকল সম্মানিত সেবক, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নির্মাতা, এই আলোকময় অঙ্গনের সকল কর্মী এবং এই পবিত্র সমাবেশ ও সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা, বিনয়, কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জানিয়ে কয়েকটি বিষয় স্মরণ করিয়ে দিতে চাই:

১) শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের প্রধান চ্যালেঞ্জ

মানুষের উৎকর্ষ ও প্রশিক্ষণের নৌকা এবং আমাদের সময়ের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা বহু প্রতিকূল বাতাস ও ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ ঢেউয়ের মুখোমুখি। বড় বড় সুযোগ থাকা সত্ত্বেও একে ঘিরে রয়েছে বিশাল চ্যালেঞ্জ। এর কিছু বিষয় এভাবে উল্লেখ করা যায়:

ক) সমকালীন মানুষের চিন্তা ও অন্তর্জগতে বস্তুবাদী চিন্তার আধিপত্য এবং অ-ঐশী চিন্তাধারার প্রভাব; জ্ঞান, জীবনযাপন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং পশ্চিম ও বিশ্বের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বস্তুবাদী ও অপবিত্রতাবাদী যুক্তির প্রাধান্য-এগুলো মৌলিক বিপদ ও ক্ষতির অন্তর্ভুক্ত। এমন পরিবেশে শিশু, কিশোর ও তরুণদের প্রশিক্ষণ গড়ে উঠছে যা পবিত্র জগত ও আধ্যাত্মিক ও নৈতিক মূল্যবোধ থেকে দূরে। পশ্চিমা সভ্যতার সকল চাকচিক্য ও বাহ্যিক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও মানবতার ভিত্তি বিকৃত হচ্ছে এবং মানুষ তার পবিত্র প্রকৃতিগত সত্তা ও ঐশী-আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলছে।

খ) বস্তুবাদ ও পরিমাণনির্ভরতার এই আধিপত্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও ভার্চুয়াল জগত। এটি মানুষের জন্য, বিশেষ করে তরুণদের জন্য একটি নতুন জীবনপরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এর অসংখ্য সুবিধার পাশাপাশি মানুষের চিন্তা, আত্মা ও মানসিকতা এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার জন্য বহু ঝুঁকিও সৃষ্টি করেছে। এর পাশাপাশি জ্ঞানবিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি মানবজাতির সামনে জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

এই পরিবর্তনগুলো একদিকে গবেষণা, অনুসন্ধান, জ্ঞান অর্জন ও দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে শিক্ষা ব্যবস্থার গতি ও নির্ভুলতা বাড়িয়েছে; অন্যদিকে গণশিক্ষা, ভার্চুয়াল শিক্ষা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিক্ষার জীবনপরিবেশের দিকে অগ্রসর হওয়ায় মানবিক ও আন্তরিক সম্পর্ক, মানুষে-মানুষে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক যোগাযোগ এবং পবিত্র ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ ক্রমশ ম্লান হয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ নিয়েও এর ফলে আরও উদ্বেগ সৃষ্টি হচ্ছে।

গ) উল্লিখিত বিষয়গুলোর পাশাপাশি বিশ্বের ওপর শয়তানি ও আধিপত্যবাদী শক্তির নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যায় রাজনৈতিকভাবে অর্থ, শক্তি ও প্রতারণার শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও উল্লেখ করতে হবে। এই শক্তি বিশ্বের সংস্কৃতি ও প্রশিক্ষণকে আধিপত্যবাদী চেতনা, বস্তুবাদী যুক্তি এবং বস্তুগত কামনা-বাসনার ভিত্তিতে পরিচালিত করেছে। ফলে মানবিক ও ঐশী দৃষ্টিভঙ্গি এবং ন্যায়বিচার ও আধ্যাত্মিকতার যুক্তি প্রান্তিক হয়ে পড়েছে।

ঘ) একইভাবে বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত ও জ্ঞানগত নানা পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করতে হবে। এসব পরিবর্তন আজকের তরুণ ও মানুষের সামনে নতুন চিন্তা, নতুন প্রশ্ন ও নতুন রুচি তৈরি করেছে। ফলে ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক ও ঐশী চিন্তা নতুন নতুন বিষয় ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এটি যেমন সতর্কবার্তা, তেমনি সঠিকভাবে মোকাবিলা করা গেলে আশাবাদ ও সম্ভাবনারও বার্তাবাহক হতে পারে।

ঙ) এগুলো শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বাস্তব পরিস্থিতি ও মৌলিক চ্যালেঞ্জের কিছু উদাহরণ মাত্র। আমরা যেসব বিষয় উল্লেখ করেছি এবং যেগুলো উল্লেখ করিনি-সবই বিশ্বপর্যায়ে এবং আমাদের দেশে ‘শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পরিচালনা’-কে দুর্বল করেছে এবং ভবিষ্যতেও করতে পারে। এর অত্যন্ত ক্ষতিকর ও বহুমাত্রিক পরিণতি হতে পারে। তাই এগুলোর সমাধানের জন্য গবেষণা ও মৌলিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

২) এসব পরিবর্তনের মোকাবিলার সঠিক পদ্ধতি

উল্লিখিত বিষয়গুলো বর্তমান শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মৌলিক চ্যালেঞ্জের একটি অংশ মাত্র। হাওজা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার জ্ঞানগত, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোগুলো কঠিন ঝড় ও প্রবল ঢেউয়ের মুখোমুখি হয়েছে।

এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো-রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, বৈজ্ঞানিক ও প্রশিক্ষণকর্মীদের এসব পরিবর্তনের ব্যাপারে অবস্থান এক নয়। কেউ কেউ এই বস্তুবাদী ও পাশ্চাত্যপ্রভাবিত পরিবর্তনকে বিশ্বাস করেন ও পছন্দ করেন এবং গভীর উপলব্ধির পরিবর্তে সরলভাবে এসব ঢেউ ও প্রভাবশালী প্রবাহের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

আবার কেউ কেউ এসব ঘটনা গভীরভাবে উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হলেও এর বিরুদ্ধে কেবল উপরিভাগে ও বাহ্যিকভাবে মোকাবিলার চেষ্টা করেন।

সঠিক অবস্থান হলো এই ঢেউগুলোর সঙ্গে বুদ্ধিমত্তাপূর্ণ ও সক্রিয়ভাবে মোকাবিলা করা এবং ইসলামী ও দেশীয় পরিচয় ও শিক্ষা- প্রশিক্ষণকে সুরক্ষিত রাখার জন্য মৌলিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা। অবশ্য এই পথ অত্যন্ত কঠিন এবং এর জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি প্রয়োজন।

৩) ইসলামী বিপ্লব ও শিক্ষা ব্যবস্থা

ইসলামী বিপ্লব সমকালীন বিশ্বের অন্ধকারে এক নতুন স্ফুলিঙ্গ ও উজ্জ্বল উল্কাপিণ্ডের মতো আবির্ভূত হয়ে জ্ঞান, আধ্যাত্মিকতা, ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের একটি নতুন চিন্তাধারার ভিত্তি স্থাপন করেছে।

ইসলামী বিপ্লব বহুস্তরীয় একটি পরিবর্তন; এর বিভিন্ন দিক ও মাত্রা রয়েছে এবং এর বিস্তৃতি অত্যন্ত ব্যাপক। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও গভীর স্তর হলো এর জ্ঞানগত ও চিন্তাগত দিক। তাই শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং এরপর বিশ্ববিদ্যালয় ও হাওজাকে অবশ্যই প্রিয় ইসলামের জ্ঞানগত দিক ও ইসলামী বিপ্লবের কেন্দ্র, প্রাণকেন্দ্র ও প্রকাশস্থল হতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবার ও গণমাধ্যমের পাশাপাশি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং সম্মানিত শিক্ষকসমাজের অনন্য ও অপরিবর্তনীয় ভূমিকা অত্যন্ত কৌশলগত ও স্থায়ী।

৪) প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল

বস্তুপূজারী শক্তির আক্রমণ, লাগামহীন শয়তানি প্রবৃত্তি ও কামনা-বাসনা এবং বর্তমান প্রজন্মের ওপর নিক্ষিপ্ত বিভিন্ন ক্ষতির মধ্যে প্রশিক্ষণের বিষয়ে প্রজ্ঞাপূর্ণ, দায়িত্বশীল, উদ্দীপনাময়, সক্রিয় ও বিপ্লবী অবস্থান গ্রহণ করা অপরিহার্য। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে কয়েকটি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি:

প্রথম: পরিবার ও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পরিচালনা ও নেতৃত্ব প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, সামাজিক ঘটনাবলি এবং বস্তুবাদী ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতির আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ইসলামী ব্যবস্থা ও ইসলামের যুক্তি অনুযায়ী এই নেতৃত্ব ও পরিচালনাকে সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং ইসলামের সুদৃঢ় নীতিমালা ও সময়ের পরিস্থিতি ও পরিবর্তন বিবেচনা করে তা সংরক্ষণ, পুনর্গঠন ও পুনঃসৃজন করতে হবে।

দ্বিতীয়: তরুণ প্রজন্মকে শক্তিশালী করা এবং তাদের জ্ঞানগত ভিত্তিকে সুদৃঢ় ও ইচ্ছাশক্তিকে দৃঢ় করা বর্তমান অস্থির সময়ে প্রশিক্ষণের ভিত্তিপ্রস্তর। আক্রমণের ঢেউয়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি এবং পবিত্র ও উচ্চতর মূল্যবোধের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের ওপর নির্ভরশীল। তাই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নতুন প্রজন্মের বৈশিষ্ট্যগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করাকে তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং তাদের উপযোগী পদ্ধতি ও কৌশল আবিষ্কার ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

তৃতীয়: শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার রূপান্তর পরিকল্পনা (সনদ) শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পুনর্গঠন ও বিকাশের সূচনা হতে পারত। কিন্তু এটি বাস্তবায়নে কিছু মূল্যবান পদক্ষেপ ও প্রেরণা থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ের সাফল্য আমরা দেখতে পাইনি। এর কিছু কারণ স্পষ্ট, আর কিছু এই আলোচনার পরিসরের বাইরে। এখন এটি বাস্তবায়ন এবং একই সঙ্গে পুনর্গঠন ও পরিপূর্ণ করার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও দায়িত্বশীল শিক্ষকসমাজের সংকল্প, দাবি উত্থাপন এবং সহযোগিতা এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ও সমাধানমূলক ভূমিকা রাখতে পারে।

চতুর্থ: বিদ্যালয় হলো শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মৌলিক কেন্দ্র ও প্রধান অক্ষ। শিক্ষক, পরিচালক ও প্রশিক্ষণকারীরা হলেন প্রশিক্ষণের পথপ্রদর্শক ও স্থপতি। আদর্শ বিদ্যালয় গড়ে তোলা এবং শিক্ষক ও পরিচালকদের জ্ঞান ও দূরদর্শিতার উন্নয়ন সাধনের যেকোনো প্রচেষ্টা সবার দায়িত্ব। অবশ্য তাদের জ্ঞান, দূরদর্শিতা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পাশাপাশি তাদের সামাজিক মর্যাদা এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ও সম্মানিত শিক্ষক- প্রশিক্ষণকারীদের উচ্চ অবস্থানও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে এবং সম্মানের আসনে বসাতে হবে, কারণ তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য অত্যন্ত ভারী।

পঞ্চম: সংক্ষেপে বলতে গেলে, কিশোর ও তরুণ প্রজন্ম, পরিবার এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে ইসলামী ব্যবস্থার সকল প্রতিষ্ঠান, নির্বাহী ও আইনসভা কর্তৃপক্ষ এবং সমগ্র সমাজের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হতে হবে। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বিকাশ ও উৎকর্ষ সাধনের জন্য জনগণ, সরকার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং গণভিত্তিক সংগঠনগুলোর সকল সামর্থ্য ও সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগানো অপরিহার্য।

পরিশেষে, সেই ঈমানি সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক সম্মেলনের আয়োজক, অংশগ্রহণকারী ও সম্মানিত উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। ইসলাম, বিপ্লব ও ইসলামী মাতৃভূমির সেবায় সকল প্রিয়জন এবং সেই প্রাণবন্ত কেন্দ্রের সাফল্য কামনা করি।

আল্লাহর নবী ও ওলিদের স্মরণ ও তাঁদের প্রতি সালাম-বিশেষ করে শেষ ওসিয়তের অধিকারী, হযরত ওয়ালিয়ে আসর (আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর জন্য উৎসর্গিত করুন)-এর প্রতি। একই সঙ্গে ইসলামের ও ইসলামী বিপ্লবের মহান শহীদদের, বিশেষত মহান ইমাম ও শহীদ নেতার (রহ.) প্রতি সালাম জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি।

আমি বিনীতভাবে পরম দয়ালু আল্লাহর কাছে ইসলামের বিজয়, মুসলমানদের বিজয়, মহান ইরানি জাতির বিজয়, সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রতিরোধ অক্ষের বিজয় প্রার্থনা করছি।

وَآخِرُ دَعْوَانا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِینَ

আলীরেজা আরাফি দেশের হাওজা-ইলমিয়াগুলোর পরিচালক

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha